প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “ভারতের স্বাধীনতালাভের পর নবগঠিত ভারতের প্রধান সমস্যাগুলি কি তা আলোচনা করো ।অথবা স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে উদ্বাস্তু সমস্যা ? অথবা স্বাধীন ভারত সরকার উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানের কি ধরণের উদ্যোগ নেয় ? অথবা উদ্বাস্তু সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করো । অথবা উদ্বাস্তু সমস্যা সমাধানে ভারত সরকারের ভূমিকা । অথবা স্বাধীন ভারতের উদ্বাস্তু সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কে আলোচনা করো । অথবা দেশভাগজনিত উদ্বাস্তু সমস্যা । অথবা স্বাধীনতার পর ভারতের প্রধান সমস্যা কি কি ? অথবা স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত ভারতের প্রধান সমস্যা গুলি কি কি ছিল ?”
ভূমিকা :
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত স্বাধীন হয় । স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত ভারত নানা সমস্যার সম্মুখীন হয় । এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করার জন্য ভারত সরকারকে কয়েক বছর ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হয় । ডঃ সর্বপল্লী গোপাল স্বাধীনতা লাভের সূচনালগ্নে এই সংকটকে বিপন্ন প্রভাত বলে অভিহিত করেছেন ।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা :
১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বিভিন্ন দাঙ্গা তীব্রতর হয়ে ওঠে । স্বাধীনতা লাভের পরেও ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই দাঙ্গা অব্যাহত থাকে । দাঙ্গায় অন্তত পাঁচ লক্ষ মানুষ নিহত হয় বলে জি ভি খোলসা উল্লেখ করেছেন । তাছাড়া ব্যাপক লুন্ঠন , গৃহে অগ্নিসংযোগ , ধর্ষণ , ধর্মান্তকরণ প্রভৃতি অব্যাহত থাকে ।
দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি :
স্বাধীনতা লাভের প্রাক মুহূর্তে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রায় ৬০০টি দেশীয় রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল । এগুলির মধ্যে কাশ্মীর , হায়দ্রাবাদ , জুনাগড় সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজ্য নবগঠিত ভারতে যোগ দিতে অস্বীকার করে । এইসব রাজ্য স্বাধীন থাকতে বা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে আগ্রহী হলে ভারতের জাতীয় সংহতির পক্ষে তা ছিল যথেষ্ট বিপজ্জনক ।
দেশভাগ ও উদবাস্তু সমস্যা :
দেশভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা নবগঠিত ভারতে তীব্র সংকর সৃষ্টি করে । পূর্ব পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু ও শিখ নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে এবং মাতৃভূমি ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় । এই বিপুল সংখ্যা উদ্বাস্তুর খাদ্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়ে । উদ্বাস্তু সমস্যা ভারতের সামাজিক , অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে । পশ্চিমবঙ্গ , অসম , ত্রিপুরা , পাঞ্জাব প্রভৃতি রাজ্যে উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে ।
খাদ্য সংকট :
দেশভাগের ফলে ভারতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে খাদ্যের মূল্য যথেষ্ট বৃদ্ধি পায় । এবং তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে চলে যায়। ফলে নবগঠিত দেশেও খাদ্যাভাব তীব্র হয়ে ওঠে ।
অর্থনৈতিক সংকট :
নবগঠিত ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি ছিল অত্যন্ত দুর্বল । দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল । সরকারের হাতে তা না থাকায় কৃষি , শিল্প , বাণিজ্য , অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে তীব্র সংকট দেখা দেয় । দেশভাগের পর বহু শিল্প কারখানা ভারতে থাকলেও শিল্পের প্রয়োজনীয় পাট ও তুলো উৎপাদক অঞ্চলগুলি পাকিস্তানের ভাগে পড়ায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয় ।
জাতীয় সংহতি সমস্যা :
নবগঠিত ভারতে বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে আঞ্চলিকতা ও সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ তীব্র হয়ে ওঠে । ভাষা ও জাতিভিত্তিক পৃথক রাজ্যের দাবিতে বিভিন্ন অঞ্চলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ।
উপসংহার :
দেশের সাধারণ মানুষ ভারতের স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের যে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল তা নবগঠিত ভারতের বিভিন্ন সমস্যার ফলে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় । তাই দরিদ্র ভারতীয় অনেকেই বলতে শুরু করে ____’ইয়ে আজাদি ঝুটি হ্যায়’ ।
অসংখ্য ধন্যবাদ সময় নিয়ে আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ।