পরিবেশের জন্য ভাবনা প্রশ্ন উত্তর 2026 | অনুশীলনী সমাধান

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “পরিবেশের জন্য ভাবনা প্রশ্ন উত্তর 2026 | অনুশীলনী সমাধান”

📘 সাজেশন

✨ প্রথম অধ্যায় – পরিবেশের জন্য ভাবনা




🅰️ বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি [MCQ]

(সঠিক উত্তরটি চিহ্নিত করো, প্রতিটি প্রশ্নমান – 1)

1️⃣ একটি পরিবেশবান্ধব শক্তি হল—

[A] সৌরশক্তি

[B] বায়ুশক্তি

[C] ভূতাপশক্তি

[D] সবগুলিই ✅


2️⃣ সূর্যালোকের কোন রশ্মির জন্য সোলার কুকার কাজ করে?

[A] দৃশ্যমান আলোক রশ্মি

[B] অতিবেগুনি রশ্মি

[C] অবলোহিত রশ্মি ✅

[D] গামা রশ্মি


3️⃣ নিম্নলিখিত কোন রশ্মিটি তাপীয় রশ্মি—

[A] অতিবেগুনি রশ্মি

[B] অবলোহিত রশ্মি ✅

[C] কসমিক রশ্মি

[D] গামা রশ্মি


4️⃣ সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—

[A] সমুদ্রে

[B] মাটিতে

[C] উদ্ভিদদেহে ✅

[D] প্রাণীদেহে


5️⃣ সৌরশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়—

[A] ফোটো ভোল্টায়িক কোশে ✅

[B] সোলার কুকারে

[C] প্রেসার কুকারে

[D] ইলেকট্রিক মোটরে


6️⃣ কোন উপাদানটি প্রাকৃতিক গ্যাস ও বায়োগ্যাস দুটোতেই বর্তমান?

[A] মিথেন ✅

[B] অক্সিজেন

[C] ইথানল

[D] কার্বন


7️⃣ Fire ice হল—

[A] CO₂

[B] মিথেন

[C] মিথেন হাইড্রেট ✅

[D] মিথানল


8️⃣ সর্বপ্রথম মিথেন হাইড্রেট থেকে শক্তি আহরণে সক্ষম দেশ হল—

[A] ভারত

[B] আমেরিকা

[C] জার্মান

[D] জাপান ✅


9️⃣ ‘মেরুজ্যোতি’ যে বায়ুস্তরে দেখা যায়, তা হল—

[A] টোপোস্ফিয়ার

[B] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

[C] আয়নোস্ফিয়ার ✅

[D] এক্সোস্ফিয়ার


🔟 বিশ্ব উষ্ণায়নের সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব কোনটি?

[A] সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধি ✅

[B] ফসলের উৎপাদন হ্রাস

[C] পানীয় জলের জোগান হ্রাস

[D] দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধি


1️⃣1️⃣ নিম্নের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়—

[A] কয়লা

[B] পেট্রোল

[C] কাঠ ✅

[D] ডিজেল


1️⃣2️⃣ নিম্নের কোনটির তাপন মূল্য সবচেয়ে বেশি—

[A] পেট্রোল

[B] কেরোসিন

[C] ডিজেল

[D] LPG ✅


1️⃣3️⃣ কোন স্তর থেকে বেশিরভাগ কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীকে আবর্তন করে—

[A] টোপোস্ফিয়ার

[B] এক্সোস্ফিয়ার ✅

[C] থার্মোস্ফিয়ার

[D] মেসোস্ফিয়ার


1️⃣4️⃣ বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের ঘনত্ব পরিমাপক এককের নাম—

[A] ডেসিবেল

[B] ডাইন

[C] হার্জ

[D] ডবসন ✅


1️⃣5️⃣ যে বিজ্ঞানী ওজোন-গহ্বর শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেন—

[A] ফোরম্যান

[B] ফেয়ারম্যান

[C] ফেন্দারম্যান

[D] এদের কেউ নয় ✅


1️⃣6️⃣ পৃথিবীর কোন অঞ্চলের ওজোন স্তর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

[A] নিরক্ষীয় অঞ্চল

[B] মেরু অঞ্চল ✅

[C] সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল

[D] এদের কোনোটিই নয়


1️⃣7️⃣ অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC বিভাজিত হয়ে উৎপন্ন করে—

[A] CF₂Cl₂

[B] CF₂Cl ✅

[C] CFCl₂

[D] Cl


1️⃣8️⃣ গ্রিনহাউস গ্যাস কোন রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বাড়ায়?

[A] সূর্যের ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি

[B] সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি

[C] ভূপৃষ্ঠ কর্তৃক বিকরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি ✅

[D] কসমিক রশ্মি


1️⃣9️⃣ বায়ুমণ্ডলের কোন স্তর জলচক্র ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে—

[A] স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

[B] থার্মোস্ফিয়ার

[C] ট্রোপোস্ফিয়ার ✅

[D] মেসোস্ফিয়ার


2️⃣0️⃣ নিম্নের যে রাসায়নিক পদার্থটি ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী—

[A] ক্লোরোফর্ম

[B] ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ✅

[C] আয়োডোফর্ম

[D] অ্যাসিটিলিন


2️⃣1️⃣ কোনটি গ্রিনহাউস গ্যাস—

[A] O₂

[B] N₂

[C] O₃ ✅

[D] H₂


2️⃣2️⃣ ‘স্টোন-ক্যানসার’-এর কারণ—

[A] গ্লোবাল ওয়ার্মিং

[B] ওজোন গহ্বর

[C] অম্লবৃষ্টি ✅

[D] কোনোটিই নয়


2️⃣3️⃣ ওজোন স্তরের গভীরতা কমে গেলে ভূপৃষ্ঠে সূর্যের কোন রশ্মি বেশি পৌঁছায়?

[A] আলোক রশ্মি

[B] অতিবেগুনি রশ্মি ✅

[C] গামা রশ্মি

[D] অবলোহিত রশ্মি


2️⃣4️⃣ প্রাকৃতিক সৌরপর্দা হল—

[A] ওজোন ✅

[B] অক্সিজেন

[C] আর্গন

[D] নাইট্রোজেন


2️⃣5️⃣ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রধান কারণ হল—

[A] ক্লোরোফ্লুরোকার্বন নির্গমন

[B] মিথেন গ্যাস নির্গমন

[C] জীবাশ্ম জ্বালানির দহন ✅

[D] নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমন


2️⃣6️⃣ কোনটি পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ—

[A] প্রাকৃতিক গ্যাস

[B] পেট্রোলিয়াম

[C] ভৌমজল ✅

[D] কয়লা


2️⃣7️⃣ ভারতে কত পরিমাণ শক্তি সৌরশক্তি থেকে পাওয়া যায়—

[A] 245 মেগাওয়াট

[B] 254 মেগাওয়াট ✅

[C] 245 কিলোওয়াট

[D] 254 মেওয়াট



🅱️ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

✍️ শূন্যস্থান পূরণ করো [মান–1]

1. পৃথিবী প্রতিদিন গড়ে সৌরশক্তি গ্রহণ করে → 1.4 kw/m²


2. পশ্চিমবঙ্গের ভূসাগরীয় শক্তিতে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল → বক্রেশ্বর


3. ত্বকে ক্যানসার হয় স্তর ক্ষয়ের ফলে → ওজোন


4. প্রতি অণু মিথেনের তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা প্রতি অণু CO₂-এর তুলনায় প্রায় → 25 গুণ বেশি






সত্য বা মিথ্যা নির্ণয় করো [মান–1]

1. অসময়ে চোখে ছানি পড়ে কালো রশ্মির প্রভাবে → ❌ মিথ্যা


2. বিশুদ্ধ শুষ্ক বাতাসে CO₂-এর পরিমাণ প্রায় 0.032% → ✔️ সত্য


3. CFC-এর পুরো নাম হল ক্লোরেফিল কার্বন → ❌ মিথ্যা


4. বায়োডিজেল উদ্ভিজ তেল থেকে তৈরি করা হয় → ✔️ সত্য




🔗 মিল করো (‘অ’ স্তম্ভের সঙ্গে ‘আ’ স্তম্ভ) [মান–1]

(a)

1. নাইট্রোজেন → (d) গ্রিন হাউস গ্যাস নয়


2. জলীয় বাষ্প → (c) গ্রিন হাউস গ্যাস


3. CFC → (a) ওজোন স্তর ছিদ্রের জন্য দায়ী


4. পরিচলন স্রোত → (b) সমুদ্রবায়ু



(b)

1. জেট প্লেন চলাচল করে → (c) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার


2. ক্ষুব্ধ মণ্ডল → (a) ট্রপোস্ফিয়ার


3. বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় → (d) আয়নোস্ফিয়ার


4. আয়নোস্ফিয়ারের পরের স্তর → (b) এক্সোস্ফিয়ার




◆ দু-একটি বাক্যে উত্তর দাও

[প্রশ্নমান – ১]




1. জ্বালানি-র জ্বলন বিন্দু কাকে বলে?
👉 সর্বনিম্ন যে তাপমাত্রায় কোনো জ্বালানি পৌঁছলে তা বায়ুতে জ্বলতে শুরু করে অর্থাৎ দহন বিক্রিয়া শুরু হয়, সেই তাপমাত্রাকে ওই জ্বালানির জ্বলন বিন্দু বলে।




2. ‘পেট্রোপ্ল্যান্ট’ কাদের বলা হয়?
👉 এমন কিছু উদ্ভিদ আছে যাদের নিঃসৃত রস থেকে তরল হাইড্রোকার্বন পাওয়া যায়, যা পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এদেরই বলা হয় পেট্রোপ্ল্যান্ট।
উদাহরণ: ইউফোরবিয়েসি, অ্যাসক্লেপিয়াডেসি, অ্যাপোসায়নেসি গোত্রভুক্ত উদ্ভিদ।




3. “Chapman Cycle” কী?
👉 স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উপস্থিত ওজোনের ধ্বংস ও সৃষ্টি যে বৃত্তাকার বিক্রিয়া পথে ঘটে, তাকে বলে Chapman Cycle।




4. প্রাকৃতিক সৌরপর্দা কাকে বলে?
👉 স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। তাই একে বলা হয় প্রাকৃতিক সৌরপর্দা।




5. কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলে ওজোনস্তরের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়?
👉 বিজ্ঞানী ডবসন আবিষ্কৃত স্পেকট্রোফটোমিটার দ্বারা।




6. বায়োমাস কী?
👉 উদ্ভিদের মৃত অংশ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থকে বলা হয় বায়োমাস। এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস।




7. কোন যন্ত্রের সাহায্যে কোনো পাত্রে আবদ্ধ বায়ুর চাপ মাপা হয়?
👉 ম্যানোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে।




8. মুক্তপথ কাকে বলে?
👉 গ্যাসের অণুগুলি ক্রমাগত নিজেদের মধ্যে বা পাত্রের দেওয়ালে ধাক্কা খায়। ধাক্কার মাঝের যে দূরত্ব সমবেগে অতিক্রম করে, সেটাই হলো মুক্তপথ।




9. অ্যালবেডো কী?
👉 সূর্য থেকে আগত রশ্মির 60% ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে, বাকি 40% মহাশূন্যে ফিরে যায়। এই প্রতিফলিত অংশকেই বলা হয় অ্যালবেডো।




10. আদর্শ গ্যাসকে কি তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
👉 না ❌ কারণ আদর্শ গ্যাসের অণুগুলির মধ্যে কোনো আকর্ষণ বল নেই।




11. বাস্তব গ্যাসকে কি তরলে রূপান্তরিত করা সম্ভব?
👉 হ্যাঁ ✅ কারণ বাস্তব গ্যাসের অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণ বল থাকে।




12. বায়ুমণ্ডলে ওজোনের পরিমাণ মাপার যন্ত্রটির নাম কী?
👉 ডবসন স্পেকট্রোমিটার।




13. বায়োগ্যাস কাকে বলে?
👉 বায়োমাসকে অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বিয়োজন করলে যে গ্যাস তৈরি হয় তাকে বায়োগ্যাস বলে।
মূল উপাদান = মিথেন গ্যাস (প্রায় 65%)।




14. ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) কী?
👉 বিভিন্ন কারণে (প্রাকৃতিক + মানবজাত) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোনস্তর পাতলা হয়ে গেলে তাকে বলা হয় ওজোন গহ্বর।




15. CFC কোথায় ব্যবহার করা হত?
👉 আগে ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার, খাদ্য সংরক্ষণ ইত্যাদিতে হিমায়ক হিসেবে।




16. দুটি অচিরাচরিত কিন্তু অ-পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস লেখো।
👉 (i) ভূ-তাপশক্তি
👉 (ii) পারমাণবিক শক্তি




17. বায়োডিজেল কী থেকে তৈরি করা হয়?
👉 উদ্ভিজ্জ তেল বা প্রাণীজ চর্বির ট্রান্সএস্টারিফিকেশন প্রক্রিয়া থেকে।




18. বৈপরীত্য উত্তাপ কী?
👉 সাধারণত উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে, কিন্তু কিছু সময় উল্টে যায় — অর্থাৎ উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। একে বলে বৈপরীত্য উত্তাপ।




19. ‘গ্রিনহাউস’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
👉 শীতপ্রধান দেশে স্বচ্ছ কাচের ঘর বানিয়ে উদ্ভিদ চাষ করা হয়, সেটাই গ্রিনহাউস।




20. ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুর অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে?
👉 প্রায় 1000 কিলোমিটার পর্যন্ত।




21. বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস কোন ভিত্তিতে করা হয়?
👉 (i) রাসায়নিক গঠন অনুযায়ী
👉 (ii) তাপমাত্রার তারতম্য অনুযায়ী




22. মেথানোজোনিক ব্যাকটেরিয়া কী?
👉 অবাত শ্বসনকারী ব্যাকটেরিয়া, যারা বাঁচার সময় মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে।




23. ভর ও শক্তির নিত্যতা সূত্র কী বলে?
👉 রাসায়নিক পরিবর্তনের আগে ও পরে ভর + শক্তির মোট পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।




24. মিথেন হাইড্রেট কী?
👉 বরফের মতো এক কেলাসাকার কঠিন পদার্থ যেখানে জল অণুর কেলাসে প্রচুর মিথেন আবদ্ধ থাকে।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (C)

[প্রতিটি প্রশ্নমান – 2]




❓ 1. ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ কাদের বলে?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের যেসব গ্যাসীয় পদার্থ উত্তপ্ত পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অবলোহিত রশ্মি শোষণ করে এবং এর একটি অংশ পুনরায় পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠ ও সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে, তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
উদাহরণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), মিথেন (CH₄), ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC), ওজোন (O₃), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), জলীয়বাষ্প (H₂O)।




❓ 2. মিথেন হাইড্রেট কী?

উত্তর: মিথেন হাইড্রেট হল কেলাসাকার কঠিন বরফ, যেখানে মিথেন অণুগুলি জলের অণু দ্বারা সৃষ্ট কেলাস গঠনের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। এর সংকেত 4CH₄·23H₂O। এটি কেবল নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপেই স্থিত থাকে।
👉 মিথেন গ্যাস উত্তোলন সহজ নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এ ক্ষেত্রে কিছুটা সফল হয়েছে।




❓ 3. মেরুজ্যোতি কীভাবে সৃষ্টি হয়? ‘সুমেরু প্রভা’ ও ‘কুমেরু প্রভা’ কাকে বলে?

উত্তর: থার্মোস্ফিয়ারের আয়নোস্ফিয়ারে (80–400 কিমি) থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন অণুগুলি সূর্যের গামা রশ্মি ও X-রশ্মির প্রভাবে আয়নিত হয়। ফলে মুক্ত ইলেকট্রন উৎপন্ন হয় এবং তারা পুনরায় আয়নের সাথে যুক্ত হলে আলোকরশ্মি নির্গত করে। একেই মেরুজ্যোতি বলে।
✅ উত্তর মেরুতে = সুমেরু প্রভা, দক্ষিণ মেরুতে = কুমেরু প্রভা।




❓ 4. ওজোনস্তরকে ‘ওজোন ছত্র’ বলার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রতিরোধ করে পৃথিবীকে রক্ষা করে। যেমন ছাতা আমাদের রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে, তেমনি ওজোনস্তর প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ।




❓ 5. ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহ্বর কী?

উত্তর: মানুষের কিছু কর্মকাণ্ডের ফলে ওজোন তৈরির তুলনায় বিয়োজনের হার বেড়ে যাওয়ায় ওজোনস্তর পাতলা হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনাকে ওজোন ছিদ্র বা ওজোন গহ্বর (Ozone Hole) বলে।




❓ 6. ‘গ্রিনহাউস প্রভাব’ কী?

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (যেমন CO₂, CH₄, CFC, N₂O, O₃ ইত্যাদি) পৃথিবী থেকে নির্গত তাপকে মহাশূন্যে যেতে না দিয়ে ভূপৃষ্ঠ ও সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে। এই প্রক্রিয়াই গ্রিনহাউস প্রভাব।




❓ 7. গ্রিনহাউস প্রভাবের উপযোগিতা উল্লেখ করো।

উত্তর:

  • গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ~15°C এ ধরে রাখে।
  • এর ফলে পৃথিবীতে প্রাণী ও উদ্ভিদের টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হয়।
  • যদি এটি না থাকত তবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হত –30°C, যেখানে জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।



❓ 8. গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাকে বলে?

উত্তর: মানুষের কর্মকাণ্ডে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই ঘটনাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং।




❓ 9. ‘জীবাশ্ম জ্বালানি’ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: কোটি কোটি বছর আগে জীবিত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভে চাপ, তাপ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে পরিবর্তিত হয়ে কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপ নেয়। এগুলিই জীবাশ্ম জ্বালানি।
👉 এগুলি প্রচলিত শক্তির উৎস এবং অনবীকরণযোগ্য।




❓ 10. ‘স্থিতিশীল উন্নয়ন’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: এমন উন্নয়ন প্রক্রিয়া, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট না করে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অশিক্ষা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান করে মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা হয়। একেই স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে।




❓ 11. মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: যে ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বায়োমাসের বিয়োজন ঘটিয়ে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে, তাদের মিথানোজেনিক ব্যাকটেরিয়া বলে।
উদাহরণ: মিথানোকক্কাস, মিথানোব্যাকটেরিয়াম।




❓ 12. ‘বায়োফুয়েল’ বলতে কী বোঝো? উদাহরণ দাও।

উত্তর: বায়োমাস থেকে তৈরি জ্বালানিকে বায়োফুয়েল বলে।
উদাহরণ: আখ বা ভুট্টা থেকে উৎপন্ন বায়োইথানল, যা পেট্রোলের সাথে মিশিয়ে গাড়ি চালাতে ব্যবহার হয়।




❓ 13. বায়োমাস কী? বায়োমাস শক্তি বলতে কী বোঝ?

উত্তর: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশেষকে বায়োমাস বলে।
👉 এ থেকে উৎপন্ন দাহ্য মিথেন গ্যাসকে বায়োমাস শক্তি বলা হয়, যা জ্বালানি ও বিদ্যুতের উৎস।


❓ 14. সৌরশক্তিকে চিরাচরিত শক্তির বিকল্পরূপে ভাবা হচ্ছে কেন?

উত্তর:

  • সূর্য অফুরন্ত শক্তির উৎস।
  • প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবীতে পৌঁছানো সূর্যালোক = 21×10¹² টন কয়লার সমান শক্তি।
  • সৌরশক্তি পুনর্নবীকরণযোগ্য, প্রবহমান ও পরিবেশবান্ধব।
  • প্রযুক্তি আয়ত্ত করলে জ্বালানির সংকট থাকবে না।



✨ দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর (D)

[প্রতিটি প্রশ্নমান – 5]




❓ 1. জীবাশ্ম জ্বালানি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করো।

উত্তর:

1. জীবাশ্ম জ্বালানির ভান্ডার সীমিত, তৈরি হতে কোটি বছর লাগে।


2. যথেচ্ছ ব্যবহার করলে শীঘ্রই নিঃশেষিত হবে।


3. অতিরিক্ত দহনে CO₂ বাড়ে → বায়ুদূষণ।


4. এগুলি অনবীকরণযোগ্য।


5. ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করলে গ্রিনহাউস গ্যাস কমবে, ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিং হ্রাস পাবে।






❓ 2. সৌরশক্তি ব্যবহারের সুবিধা কী কী?

উত্তর:

1. সৌরশক্তি অফুরন্ত, নিঃশেষ হয় না।


2. পরিবেশ দূষণ করে না।


3. সহজ পদ্ধতিতে সৌরপ্যানেল দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।


4. দুর্গম অঞ্চলেও ব্যবহার সম্ভব।






❓ 3. বায়োফুয়েল কয় প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: বায়োফুয়েল তিন প্রকার:

1. কঠিন বায়োফুয়েল: কাঠ, বাঁশ, খড় ইত্যাদি → রান্নার কাজে।


2. তরল বায়োফুয়েল: বায়োইথানল (ভুট্টা/আখ), বায়োডিজেল (উদ্ভিজ্জ তেল থেকে) → যানবাহন ও গৃহগরমে।


3. গ্যাসীয় বায়োফুয়েল: গোবর গ্যাস → আলো, রান্না, বিদ্যুৎ।




❓ 4. ভূতাপশক্তি ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করো।

উত্তর:

✅ সুবিধা:

  • অফুরন্ত জোগান।
  • ২৪ ঘণ্টা সরবরাহ সম্ভব।
  • পরিবেশবান্ধব।

❌ অসুবিধা:

  • বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি ব্যয়বহুল।
  • ভূগর্ভ থেকে রাসায়নিক নির্গমন সমস্যা।
  • উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত, প্রযুক্তি জটিল।

Leave a Comment