স্নেহের শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় _____কোনি চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তর _____
প্রাক্কথন :
বাংলা কথাসাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসটি এক হতদরিদ্র মেয়ের সাফল্যের জগতে উত্তরণের ইতিবৃত্ত।
চরিত্র বিশ্লেষণ :
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শ্যামপুকুর বস্তিবাসী কনকচাঁপা পাল বা কোনিকে কেন্দ্র করেই গোটা উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে। উপন্যাসে যে সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য কোনি চরিত্রটি অনন্যতা লাভ করেছে, সেগুলি হল-
(ক) সংগ্রামী :
কঠোর জীবন সংগ্রামই ছিল কোনির জীবনের নিষ্ঠুর ভবিতব্য। তাইতো হাজারো ষড়যন্ত্রের চক্রব্যূহ ভেদ করে সে জীবনে ও জলে-সর্বত্রই লড়েছে এবং জিতেছে।
(খ) একাগ্র এবং জেদি :
জয়ের মূলমন্ত্র হল একাগ্রতা আর অদম্য জেদ। দুটোই কোনির চরিত্রে বিদ্যমান। গোটা উপন্যাসেই আমরা কোনির একাগ্রতা এবং জেদের পরিচয় একাধিকবার দেখতে পেয়েছি।
(গ) খেলোয়াড় সুলভ :
কোনির ভিতর সুপ্ত থাকা স্পোর্টিং মাইন্ডকে ক্ষিতীশের জহুরি চোখ চিনে নিতে পেরেছিল। তাই তো দর্শকদের আসনে বসে থাকা কোনি শেষ পর্যন্ত বিজয়িনীর মঞ্চে পৌঁছোতে পেরেছিল।
(ঘ) আত্মমর্যাদাবোধ :
কোনির আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রবল। তাই সে অহংকারী হিয়ার দেওয়া চকলেটের টুকরো না খেয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।
(ঙ) পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা :
হতদরিদ্র কোনি কিশোর বয়স থেকেই সংসারের
পাশে থেকেছে। নিজের টিফিনের টাকা, ‘প্রজাপতি’তে কাজ করে উপার্জিত মাসিক ৪০ টাকা, সমস্তটাই সে সংসারে দিয়ে দিত। সংসারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ছিল প্রবল।
(চ) অভিমানী :
আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতন কোনির হৃদয়েও অভিমান ছিল। উপন্যাসের শেষ অংশে ক্ষিতিশের প্রতি তার অভিমানের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই।
(ছ) পরিশ্রমী ও কষ্টসহিষ্ণু :
কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই কোনি দরিদ্র জীবন যন্ত্রণা ও অভুক্ত পেটের যন্ত্রণাকে অতিক্রম করেছিল। তার এই পরিশ্রম ও কষ্টসহিষুতাই তার মাথায় বিজয়ীর মুকুট তুলে দিয়েছিল।
শেষ কথা :
পরিশেষে বলা যায় যে, কোনি শুধুমাত্র উপন্যাসের একটি চরিত্র নয়। কোনি হল বাংলার কুঁড়েঘরে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার আত্মপ্রত্যয়ী, জেদি ও লড়াকু মেয়েদের প্রতিচ্ছবি।