প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় _____“আমি তো পাস করা ডাক্তার নই….।” -মন্তব্যটির প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। বক্তা সম্পর্কে কাহিনি থেকে যা জানা যায় নিজের ভাষায় লেখো।
“আমি তো পাস করা ডাক্তার নই….।” -মন্তব্যটির প্রসঙ্গ নির্দেশ করো। বক্তা সম্পর্কে কাহিনি থেকে যা জানা যায় নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর _____
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 📖 ‘হলুদ পোড়া’ গল্পতে নবীনের স্ত্রী দামিনীর গায়ে বাতাস লাগে 🌬️।
দামিনীর হাত থেকে লণ্ঠন ছিটকে গিয়ে পড়ে দক্ষিণের ঘরের বারান্দায় 🕯️🏠।
উঠোনে ছিটকে পড়ে হাত-পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে দামিনী অজ্ঞান হয়ে যায় 😵💫।
আর এই সময়েই ঝোড়ো হাওয়া 🌪️ দালানের আনাচে-কানাচে যেমন গুমরে গুমরে কাঁদে,
দামিনী সেইরকম আওয়াজ করতে থাকে 😖।
শুভ্রার দাদা ধীরেন, যদিও পাস না করা ডাক্তার 👨⚕️,
তবুও গ্রামের একমাত্র চিকিৎসাজ্ঞ ব্যক্তি — তাকেই ডেকে আনা হয় দামিনীর চিকিৎসার জন্য 🏃♂️।
দামিনী তখন অর্থহীন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে,
আপনমনে হাসছে-কাঁদছে,
যারা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিল, তাদের আঁচড়ে কামড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল 😨💢।
ধীরেন তাকে দেখে কিছুটা আত্মপ্রত্যয়ের অভাববোধ করে।
সে বলে —
👉 “আমি চিকিৎসা করতে পারি, কিন্তু যেহেতু আমি পাস করা ডাক্তার নই, তাই দায়িত্ব নিতে ভরসা পাচ্ছি না।”
🩺 একইসঙ্গে সে শা’পুরের কৈলাশ ডাক্তারকে ডাকার পরামর্শও দেয় 🚑।
—
ধীরেন সম্পর্কে গল্প থেকে জানা যায় —
🎓 সে ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে বিএসসি পাস করে,
এবং সাত বছর ধরে গ্রামের স্কুলে ভূগোল পড়ায় 🏫।
প্রথমদিকে সে ছিল প্রবল উৎসাহী ✨ —
📚 সাতচল্লিশখানা বই নিয়ে গড়েছিল লাইব্রেরি,
🧑🤝🧑 সাতজন ছেলেকে নিয়ে তৈরি করেছিল তরুণ সমিতি,
💊 সাধারণ অসুখ-বিসুখে বই পড়ে বিনামূল্যে ডাক্তারি করত।
কিন্তু পরে একটি গ্রাম্য মেয়েকে বিয়ে করে,
মাত্র দু-বছরে চারটি ছেলেমেয়ের জন্ম হওয়ার পর 😮💨
তার উদ্যমে স্পষ্ট ঘাটতি দেখা দেয় ⏳।
📕 তার লাইব্রেরির বইয়ের সংখ্যা তিনশোতে এসে থেমে যায়।
এখন সেই তালাবন্ধ লাইব্রেরি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়েই পড়ে আছে 🔒📖।
বছরে মাত্র দু’-তিনবার তরুণ সমিতির মিটিং হয়,
আর আগে যিনি বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন,
এখন তিনি ডাক্তারির বিনিময়ে চার-আনা, আট-আনা ফি নেন 💰
এমনকি ওষুধ বিক্রিও করেন 💊🧾।
—
✨ এভাবেই গল্পে ধীরেনের চরিত্রটি একাধারে আদর্শবাদী থেকে বাস্তববাদীতে রূপান্তরিত হয়েছে 💭,
যেখানে তার এই উক্তি —
“আমি তো পাস করা ডাক্তার নই…”
তার অসন্তুষ্টি, আত্মসংশয় এবং জীবনের ব্যর্থতার প্রতিফলন 😔💬 হিসেবে প্রতিধ্বনিত হয়।
—