প্রিয় পাঠক পাঠিকা এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “আমাদের পরিবেশ : সমস্যা ও প্রতিকার প্রবন্ধ রচনা|Amader Poribesh : Samossa O Protikar”
আপনি কি অনলাইনে “আমাদের পরিবেশ : সমস্যা ও প্রতিকার” প্রবন্ধ রচনাটি খুঁজছেন ,
যদি তাই হয় ,
আপনি তাহলে একদম সঠিক আর্টিকেলে এসে উপস্থিত হয়েছেন ।
আমি এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি অত্যন্ত সহজ – সরল ভাষায় “আমাদের পরিবেশ : সমস্যা ও প্রতিকার” প্রবন্ধ রচনাটি ।
আমার এই আর্টিকেলটি “আমাদের পরিবেশ : সমস্যা ও প্রতিকার ” প্রবন্ধ রচনার জন্য একটি দারুণ নোট । আপনি যদি এই প্রবন্ধটি পরীক্ষায় ঠিক এভাবেই লিখতে পারেন তাহলে আপনি গ্যারান্টি ফুল মার্কস পাবেন- ই
অতএব এই আর্টিকেলটি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার বিশেষ অনুরোধ রইলো…..
ভূমিকা :
পরিবেশ হল আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি । মানুষের চারপাশে যে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে , যেমন বাতাস , জল , মাটি , গাছপালা , প্রাণী , পাহাড় – নদী সেইসব নিয়েই আমাদের পরিবেশ । আমরা প্রতিদিন যে জিনিসগুলো ব্যবহার করি – জল পান করি , খাবার তৈরি করি – সবই পরিবেশের দান । কিন্তু আধুনিক যুগের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও মানুষ কেন্দ্রিক আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের কারণে পরিবেশ আজ ধ্বংসের মুখে । এই ধ্বংসাত্মক অবস্থার ফলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে । তাই পরিবেশ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি ।
পরিবেশের প্রধান সমস্যা :
১. বায়ু দূষণ :
কলকারখানা , যানবাহনের ধোঁয়া , কৃষিজ জ্বালানি পোড়ানো এবং অরণ্য ধ্বংসের ফলে বায়ুর গুণগত মান দ্রুত নষ্ট হচ্ছে । এর ফলে শ্বাসকষ্ট , হাঁপানি , চোখে জ্বালা এবং হৃদরোগ বেড়ে চলেছে ।
২. জল দূষণ :
রাসায়নিক সার , কীটনাশক নর্দমা ও কারখানার বর্জ্য নদী-নালায় পড়ে পানীয় জলকে বিষাক্ত করে তুলেছে । এতে মানুষ ও জলজ প্রাণী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ।
৩. মাটি দূষণ :
অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে , যা কৃষির ক্ষতি করছে ।
৪. শব্দ দূষণ :
শহরের যানজট , মাইকের আওয়াজ , বাজি ইটভাটার শব্দ মানুষকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে ।
৫. বন উজাড় :
বন ধ্বংসের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে , যার প্রভাব পড়ছে আবহাওয়া ও জলচক্রে ।
৬. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস :
বনাঞ্চল ও জলাভূমি নষ্ট হওয়ায় বহু পশুপাখি ও উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তপ্রায় ।
৭. জলবায়ু পরিবর্তন :
পরিবেশ দূষণের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে , বরফ গলছে , সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে , যা বিশ্বব্যাপী এক বিপদের সংকেত ।
প্রতিকার ও করণীয় :
১. গাছ লাগানো ও বন সংরক্ষণ :
শহর ও গ্রামে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান চালাতে হবে এবং বন ধ্বংস বন্ধ করতে হবে ।
২. পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহার :
প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধ করে কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে ।
৩. শিক্ষা ও সচেতনতা :
স্কুল – কলেজের পাঠ্যক্রমে পরিবেশ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে । মিডিয়ার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রচার করতে হবে ।
৪. সরকারি কঠোর আইন প্রয়োগ :
পরিবেশ রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরনো আইনগুলির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে ।
৫. দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহার :
কলকারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা রাখতে হবে ।
৬. পরিচ্ছন্নতা অভিযান :
প্রতিটি নাগরিকের উচিত নিজের আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা ।
৭. প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার :
জল , বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধ করতে হবে ।
৮. জনসম্পৃক্ততা :
গ্রাম ও শহরে পরিবেশ সংরক্ষণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও নাগরিকদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে ।
উপসংহার :
পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারি বা কোন বিশেষ সংস্থার কাজ নয় , বরং এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব । পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশের প্রতি ভালবাসা দেখাতে হবে । ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ , সুস্থ ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে আজই পদক্ষেপ নিতে হবে । দেরি করলে ক্ষতি আর শুধরানো যাবে না ।
স্লোগান :
“সবুজে পৃথিবী , সুস্থ জীবন – পরিবেশ রক্ষা হোক আমাদের ব্রত!”