স্নেহের শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “‘অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে’/অস্ত্র ফেলো , অস্ত্র রাখো পায়ে’ _ কবির কেন এই আহ্বান , এই আবেদনের মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ বিরোধী মানবতার প্রকাশ ঘটেছে তা আলোচনা করো ।”
অথবা _____ কবিতার মূলভাব বা বিষয়বস্তু আলোচনা করো ।
অথবা ______ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার বিষয়বস্তু
অথবা ______ ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার মূল বক্তব্য নিজের ভাষায় লেখো ।
উত্তর _____
প্রাককথন :
অস্ত্র হল রক্তপাতের আমন্ত্রণ পত্র । শাশ্বত মঙ্গল থেকে আলোকবর্ষ দূরে তার অবস্থান । অন্যদিকে গান হল জীবনের সঞ্জীবনী সুধা । গানের ছোঁয়ায় হৃদয়ের বন্ধ দুয়ারের তালা ভেঙে অন্ধকারের কালিমা অপসৃত হয় সুরের আলোয় । আধুনিক কবি জয় গোস্বামী তার ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় গানের এই যুদ্ধজয়ী মূর্তিকেই প্রতিষ্ঠা করেছেন ।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান :
অস্ত্রধারীদের রক্তচক্ষুর ভয়ে কুঁকড়ে থাকা জনতার কাছে কবি গানকে প্রতিরোধের অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন । কবি চান সমাজের বুকে উদ্ধত অস্ত্রের ঝংকারে বন্ধ হোক উদার মানবিকতার আদর্শের অনুরণনে । তাই তিনি যুদ্ধবিরোধী সমষ্টির প্রতিনিধি হিসেবে দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেছেন , ‘আমি এখন হাজার হাতে পায়ে’ ।
গানের বর্ম পরেই তিনি প্রতিবাদের আগুয়ান । হিংস্র চিল শকুনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে , কোকিলের মোহন সুরে তিনি আচ্ছন্ন করতে চান অস্ত্রধারীর হৃদয় । ‘মাথায় কত শকুন বা চিল / আমার শুধু একটা কোকিল’ ।
গান মানুষকে জীবনের বলয়ে ফিরিয়ে আনে । মানুষের মন থেকে মুছে দেয় লুব্ধতা আর হিংসার গরল । কবি জানেন গানের পায়ে অস্ত্রকে অঞ্জলি দিলেই পাওয়া যাবে ঋষি বালক রূপধারী শান্তির দূতের দুর্লভ দর্শন । তাই তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে অস্ত্রের ঝনঝনানিকে গানের সুর মূর্ছনায় স্তব্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন , ‘অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে’ ।
শেষকথা :
অস্ত্রের ক্ষমতা হয়তো অসীম , কিন্তু গানের ক্ষমতা অসীমের চেয়েও অসীম । গান মানুষকে বাঁচতে শেখায় ভালবাসতে শেখায় , তাই মর্মের গভীরে প্রবিষ্ট হিংসার বাহন অস্ত্রকে গানের পায়ে অঞ্জলি দিলে , চিতাসজ্জা থেকে আবারো মাথা তুলে আকাশে উড়বে শান্তির ফিনিক্স ।
যুদ্ধ নয়, শান্তিই হোক অস্ত্র।
দেখুন এই হৃদয়স্পর্শী বিশ্লেষণ।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় নিয়ে আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ।