কাশ্মীরের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করো|

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘কাশ্মীরের সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করো ।’

অথবা কাশ্মীরকে কিভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তা লেখো ।

অথবা কিভাবে কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয় ?|Kashmir Samasya

অথবা কাশ্মীর সমস্যা কিভাবে সৃষ্টি হয় ?

অথবা কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করো|দশম শ্রেণী

অথবা কাশ্মীরের ভারতভুক্তির বিষয়টি আলোচনা করো ।

অথবা কাশ্মীর সমস্যা সম্পর্কে একটি টীকা লিখ ।

অথবা কাশ্মীর সমস্যা কি ?

অথবা কাশ্মীর সমস্যা কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল ?

উত্তর :

ভূমিকা :

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পর ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করে তারপর ভারতীয় ভূখন্ডে অন্তত ৫০০ টি স্বাধীন দেশীয় রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল । ভারতের স্বাধীনতা আইনের দ্বারা এই রাজ্যগুলি নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখার অথবা ভারত ও পাকিস্তানের যেকোনো একটি রাষ্ট্রে যোগদানের অধিকার পায় । ‘লৌহমানব’ নামে খ্যাত ভারতের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের চাপের ফলে অধিকাংশ দেশীয় রাজ্যই ভ্রাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে ‘ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাসোসিয়েশন’ ( Instrument of Accession) নামক ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় । কিন্তু যে তিনটি ব্যতিক্রমী রাজ্য ভারতভুক্তির বিষয়ে বিশেষ সমস্যা সৃষ্টি করেছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কাশ্মীর । কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়ে যে জটিল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তার সমাধান আজও হয়নি । 

কাশ্মীরের স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা :

ভারতের স্বাধীনতা লাভের সময় কাশ্মীরের রাজা ছিলেন হরি সিং । ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ দেশে হরি সিংকে যোগদানের আবেদন জানান । কিন্তু মহারাজা হরি সিং কোন দেশে যোগদান না করে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন । অপরদিকে কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’ এর নেতা শেখ আবদুল্লা কাশ্মীরের ভারতভুক্তির জন্য আন্দোলন করেন ।

কাশ্মীরে পাক আক্রমণ ও ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর :

কাশ্মীরের রাজা হরি সিং স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন । ভারত ও এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বিরোধী ছিল । কাশ্মীরের প্রধান রাজনৈতিক দল ও তার প্রাণপুরুষ এক্ষেত্রে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি সম্পর্কে জনমত গঠন করতে থাকেন ।  কিন্তু যেহেতু মুসলিমদের সংখ্যা বেশি সেজন্য পাকিস্তান এই রাজ্যটিকে নিজের অধীনে আনতে উদ্যোগী হন । এই অবস্থায় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ২২ শে অক্টোবর পাকিস্তানের মদতপূর্ণ হানাদার বাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে হত্যা , লুঠ নির্যাতন সহ ব্যাপক হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করে । এই অবস্থায় মহারাজা হরি সিং রাজধানী শ্রীনগর থেকে পালিয়ে যান এবং ২৫ অক্টোবর ভারত সরকারের কাছে সাময়িক সাহায্য প্রার্থনা করেন । ভারত সরকার জানায় যে ,  মহারাজা ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করলে তবে ভারত কাশ্মীরে সেনা পাঠাবে । তারপর মহারাজা হরি সিং ২৬ শে অক্টোবর ভারতভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন এবং কাশ্মীরের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল তার সমর্থন করে । পরদিন ভারত সেনাবাহিনী  শ্রীনগরে প্রবেশ করে এবং কাশ্মীরে ১/৩ অংশ দখল করে নেয় ।

উপসংহার :

পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ কাশ্মীর না পেয়ে তখন থেকে মাঝে মাঝেই কাশ্মীরে আক্রমণ চালায় । এর ফলে কাশ্মীরের উপর আধিপত্য প্রতিস্থানকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও বিরোধ চলছে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে ১৯৪৭ , ১৯৬৫ , ১৯৭১ , ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বড় ধরনের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ।

অসংখ্য ধন্যবাদ সময় নিয়ে আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ।

Leave a Comment