স্নেহের শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “টীকা লেখো : সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা ।”
অথবা_____ টীকা লেখো : সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি|দশম শ্রেণী| ইতিহাস|সপ্তম অধ্যায়
অধ্যায়_____ সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি কি ?
অথবা_____ সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা বলতে কি বোঝায় ?
অথবা_____ ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ কি?
উত্তর_____
ভূমিকা :
ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার সংখ্যালঘু ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মতাদর্শের নীতি দেন । এই প্রচেষ্টায় পরিণতি ছিল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র্যামসে ম্যাকডোনাল্ড – এর ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি’ ঘোষণা করেন ।
সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি :
সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতির মাধ্যমে ভারতবাসীদের এক জাতি হিসেবে বিবেচনা না করে বিভিন্ন সম্প্রদায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় । এই নীতিতে বলা হয় , মুসলিম , শিখ , খ্রিষ্টান , অ্যাংলো ইন্ডিয়ান , বর্ণ হিন্দু , অনুন্নত শ্রেণীর হিন্দু প্রভৃতি প্রত্যেক সম্প্রদায় আইনসভার পৃথক নির্বাচনের অধিকার পাবে । এভাবে ভারতে সামগ্রিক বিভেদ সৃষ্টির পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করা হয় ।
মূল বক্তব্য :
সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা ঘোষণা করা হয় যে _____
(১) মুসলিম , শিখ , খ্রিষ্টান অ্যাংলো —– ইন্ডিয়ান প্রভৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হবে ।
(২) হিন্দু সমাজকে বর্ণহিন্দু ও অনুন্নত শ্রেণীতে বিভক্ত করে অনুন্নত শ্রেণীর পৃথক নির্বাচন বিধি মেনে চলা হবে ।
মূল্যায়ন :
সাংবিধানিক দিক দিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা’ নীতি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বীকৃতি । কিন্তু ভারতের জাতীয় নেতাদের কাছে এই নীতি ছিল ব্রিটিশের ‘বিভাজন ও শাসন নীতি’র প্রতিফলন । এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর সরব হন যারবেদা জেলে অনশন শুরু করেন ।
“ধর্মের নামে দেশভাগ—সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়!”
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় নিয়ে আর্টিকেলটা পড়ার জন্য ।।