সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর 2026

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় __________সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর 2026

Table of Contents

সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর 2026

১. “বাংলা শুধু হিন্দু নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয় – মিলিত হিন্দু মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা” – কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে ? কেন এই উক্তি ? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার চরিত্রের কোন দিক ফুটে উঠেছে ?

উত্তর – বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত সিরাজদ্দৌলা নাট্যাংশে সিরাজ স্বয়ং এই উক্তিটি করেছিলেন । সংশ্লিষ্ট কথাটি তিনি তাঁর প্রধান সেনাপতি মীরজাফর অন্যান্য সেনাধ্যক্ষগণ এবং সভাসদ যথা রাজবল্লভ জগৎশেট, দুর্লভ রায় প্রভৃতি ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন ।

নবাব সিরাজদ্দৌলার প্রতিষ্ঠানিক ধর্ম ছিল মুসলিম । কিন্তু তিনি মুসলিম শাসন হলেও বাংলাকে শুধু মুসলমানের জায়গা বলে ভাবতেন না । তার কাছে বাংলার শাসক ছিল মিলিত হিন্দু মুসলমানের গুলবাগ অর্থাৎ ফুলের বাগান । ফুলের বাগানে বিভিন্ন ফুল একসাথে সহাবস্থান করে, তাদের মধ্যে কোন বিভেদ থাকে না । প্রকৃতপক্ষে, নবাব সিরাজদ্দৌলা তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে বঙ্গভূমির অসাম্প্রদায়িক চরিত্র বোঝাতে চেয়েছেন ।
বাংলার দুর্দিনে সকলের কাছে সিরাজ সাহায্যের জন্য কাতর আর্তি জানিয়েছিলেন । তিনি চেয়েছিলেন সাম্প্রদায়িক বিভেদ নয়, সম্প্রীতির মন্ত্রেই পরাস্ত হোক অপশক্তির আস্ফালন। সভাসদদের উদ্দেশ্য তাঁর এই উক্তির মধ্যে দিয়ে সিরাজ চরিত্রের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও দেশপ্রেমের ভাবটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ।

২.”কিন্তু অভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।”-  কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য ? এইরূপ মন্তব্যের কারণ কী?

উত্তর – বাংলার নাট্যসাহিত্যমালঞ্চের  অন্যতম সত্ত্বা শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অংকের প্রথম দৃশ্য থেকে সংকলিত সম শিরোনামীয় পাঠ্যাংশের থেকে আলোচ্যাংশটি সংগৃহীত হয়েছে।

বক্তা ও উদ্দিষ্ট্য ব্যক্তি :  মন্তব্যটির বক্তা হলেন বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা, তিনি ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটস – এর উদ্দেশ্যে এই মন্তব্যটি করেছেন।

মন্তব্যের কারণ : আলিবর্দির দৌহিত্র তথা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ তার স্বল্প শাসনকালে বহু ষড়যন্ত্র ও কূটনীতির সম্মুখীন হন । নিজের পরিবার পরিজনের একাংশ (যেমন- ঘসেটি বেগম, রায়দুর্লভ, মীরজাফর ) দ্বারা তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হন, আর এই ষড়যন্ত্রে যোগ্য সহায়তা করেছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস ও অ্যাডমিরাল ওয়াটসন ।

দক্ষ ষড়যন্ত্রীভেদি হিসেবে সিরাজ গুপ্তচর মাধ্যমে এই ইংরেজদের ব্যক্তিগত চিঠিপত্রাদি হস্তগত করেছিলেন এবং তাদের ষড়যন্ত্র ও মনোভাব সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন নিখুঁতভাবেই ।
ওয়াটস ওয়াটসনের একে অপরের উদ্দেশ্যে লেখা এই পত্র গুলি মুন্সি প্রকাশ্যে সভাসদদের বাংলায় বুঝিয়ে দেন। পত্রের এক একটি বাক্যই ইংরেজদের ক্ষমতাদখল ও প্রতিহিংস্র স্পৃহার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটে । অথচ কলকাতায় তৎকালীন আলিনগড়ের সন্ধি অনুযায়ী স্থির হয় কোম্পানির প্রতিনিধি অনুগত থাকবে । তাই তাদের এইরূপ আস্পর্ধা দেখে সিরাজ ক্ষিপ্ত হন। ওয়াটস চিঠিতে লেখেন : it is impossible to rely upon the nabab and it will be wise to attack Chandernagore” এভাবেই তারা সীমা লঙ্ঘন করে চন্দননগর আক্রমণ, অধিক সেনানিবাস স্থাপন করতে উদ্যোগী হয়। এই প্রতিস্পর্ধী  পদক্ষেপ বিনয়ী শাসক সিরাজ এর জ্ঞাত হলে তিনি বলেন –
“শুধু শান্তিভঙ্গের আকাঙ্ক্ষায় আমি এতদিন তোমাদের সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার করে এসেছি। কিন্তু অভদ্রতার অযোগ্য তোমরা।”

৩. “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না” ? – কাদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য কোন দুর্দিন নির্দেশিত হয়েছে ?

উত্তর :  সুনাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বিরোচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকে ২য় অংকের প্রথম দৃশ্য হিসেবে সংকলিত সম্মামীয় থেকে আলোচ্যা়ংশটি সংগৃহীত।

বক্তা ও উদ্দিষ্ট ব্যক্তি:  এই মন্তব্যটি বাংলার সর্বশেষ সর্বশেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ মীরজাফর সহ অন্যান্য সভাসদ (রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎ সেট প্রভৃতি) র উদ্দেশ্যে করেছেন ।

‘দুর্দিন’এর বৃত্তান্ত: আলিবর্দির দৌহিত্র তথা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ চরিত্রের উদারতা ক্ষমা, দয়াদাক্ষিণ্য তাকে অনেকখানি পতনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তার চরিত্রের এই দুর্বলতা জাতির জীবনে ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।

নাট্যাংশ দেখা যায় ঘরে-বাইরে, সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রচিত হয়। একদিকে ঘসেটি বেগম শওকৎ জং মীরজাফর অন্যদিকে মান্য সভাসদ রায়দুর্লভ জগৎ শেট রাজবল্লভ আর এই ষড়যন্ত্রে ঘৃতাহুতি দেন ইংরেজি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস । যোগ্য সহায়তা যোগান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এডমিরাল। ওয়াটসন তিনি বলেন : “বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইব যা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়েও নেভানো যাইবে না ।”

এমতাবস্থায় ইংরেজ প্রতিনিধি আলিনগরের সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন করে চন্দননগর আক্রমণ ও আলিনগরের অতিরিক্ত সেনা নিয়োগের উদ্যোগ নিলে বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগ ঘনীভূত হয়। এ যেন বাংলায় মুসলিম নবাবির অন্তকালকে সূচিত করেছিল। এহেনো সংকটকালে। বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়ে যাবে – এই আশঙ্কায় সিরাজ কঠোরতার পরিবর্তে পারস্পারিক সৌহার্দ্য স্থাপনের প্রয়োজন বোধ করে বলেন : “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।”

৪. “ওখানে কী দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো!”- বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি বক্তার মনোভাব ব্যক্ত করো ।

উত্তর : আধুনিক বাংলা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত বিরোচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের সংকলিত একই শিরোনামীয় পাঠ্যাংশ থেকে আলোচ্যাংশটি গৃহীত ।

বক্তার মনোভাব : সিরাজের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের আবহ রচিত হয়েছিল – তার অন্যতম স্রষ্টা ছিলেন ঘসেটি বেগম । মতিঝিলের রাজপ্রাসাদের ষড়যন্ত্র রচনা হওয়ায় নবাব সিরাজ ঘসেটিকে নিজ  প্রাসাদে গৃহবন্দীকরে রেখেছিলেন; ঘসেটি ছিল সিরাজের নিকট মাতৃসমা । পূর্ণিয়ার যুদ্ধে নিজ পালিত পুত্র শওকত জং এর মৃত্যুতে যন্ত্রণাদগ্ধ ঘসেটি তাই চেয়েছিলেন সিরাজের পতন । তাই সিরাজের প্রতি তার মনোভাব মোটেই শ্রদ্ধাভাজন বা মায়ামমতাপূর্ণ ছিল না ।

প্রতিহিংসা : নিজ পুত্রের মৃত্যুতে দগ্ধ ঘসেটি সিরাজের পতন প্রার্থনা করতেন । আর প্রতিহিংসা বহিঃপ্রকাশ হয় এই মন্তব্যে “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতি ও নাই – আছে শুধু প্রতিহিংসা ।

ক্ষমতালোভ : স্পষ্টতই ঘসেটি একজন ক্ষমতালিপ্সু সত্তা। তাই তিনি সিরাজকে বলেন – অপরকে বঞ্চিত করে যে সিংহাসন পেয়েছে, সে সিংহাসন তোমাকে শান্তি দেবে ভেবেচ?”
অভিশম্পাতি : নিজেকে অভাগী সর্বহারা ব্যক্ত করে ঘসেটি বেগম অকম্পিত কন্ঠে, সিরাজের নবাবির ওপর অভিশাপবাণী নিক্ষেপ করেন – “আমিনা কেঁদে কেঁদে অন্ধ হবে ! পলাশি প্রান্তরে কোলাহল ঝাঁপিয়ে উঠবে ক্রন্দনরোল ! সিরাজের নবাবির এই পরিণাম !”

মাতৃত্ববিহীন ঘসেটি অনবরত সিরাজের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে তার নবাবির উৎখাতের স্বপ্ন দেখতেন। তাই রুক্ষতার সহিত তিনি সিরাজকে বলেন –
“ওখানে কি দেখচ মূর্খ, বিবেকের দিকে চেয়ে দ্যাখো ! “

৫. ‘আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো ‘- কাদের কাছে এই ক্ষমা প্রার্থনা ? কেন এই ক্ষমা প্রার্থনা ? অথবা ‘তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত’ – বক্তা কাদের কাছে কেন লজ্জিত ?  অথবা ‘তোমরা প্রতিকারের আশায় আমার কাছে উপস্থিত হয়েচ’ – কারা কোন প্রতিকারের আশায় এসেছিল ?  বক্তা তাদের কী সাহায্য করতে পেরেছিলেন ?

উত্তর : উৎস : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

উত্তরের প্রথমাংশ :  নবাব সিরাজদৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে-লা সহ বাংলায় বাণিজ্যরত সমস্ত ফরাসিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ।
উত্তরের দ্বিতীয়াংশ : আন্তর্জাতিক স্তরে ফরাসি ও ইংরেজরা চিরশত্রু। সিরাজ বাংলার বুকে বিবাদমান এই দুই পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাইলেও, ইংরেজরা ফরাসিদের বাংলার বুক থেকে উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর ছিল । তারই ফলস্বরূপ –
(ক) ইংরেজ আলিনগরের সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেছে (খ) ফরাসিদের বাণিজ্য কুঠি চন্দননগর আক্রমণ ও দখল করেছে (গ) ফরাসিদের অন্যান্য বাণিজ্যকুঠিগুলি, তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য দাবি তুলেছে।

এমতাবস্থায়, ইংরেজদের এই অগ্রাসনের প্রতিকার চেয়ে ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে-লা নবাবের দরবারে হাজির হন । কিন্তু নিরুপায় নবাব জানান –
(কি) কলকাতা জয় আর পূর্ণিয়ার  শওকৎ জঙ্গের সঙ্গে লড়াইয়ে তার প্রভূত অর্থ ব্যয় হয়েছে। (খ) নবাবের মন্ত্রীমন্ডলও এই মুহূর্তে যুদ্ধের পক্ষপাতী নন 
– এইসব কারণেই ফরাসিদের প্রতি নবাবের পূর্ণ সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও, সিরাজ ইংরেজদের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হতে পারেন নি। নিজের এই নিষ্ক্রিয়তা তথা অক্ষমতার জন্যেই লজ্জিত নবাব মঁসিয়ে-লা সহ সমস্ত ফরাসিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ।

৬. ‘এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ’ –  কেন বক্তার এই অভিমত ? অথবা ‘মাত্র পনেরো টি মাস আমি রাজত্ব করেছি’- এই রাজত্ব করার অভিজ্ঞতাটি কেমন ? অথবা ‘আজও তার বুকে রক্তের তৃষা জানিনা কার রক্ত চায় সে পলাশী রাক্ষসী পলাশী’ কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য ?

উত্তর : উৎস : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

প্রসঙ্গ : রাজমুকুট সিরাজের কাছে হয়ে উঠেছিল কাঁটার মুকুট । মাত্র পনেরো মাসের রাজত্বকালের অধিকাংশ সময়ই তাকে ষড়যন্ত্র ভেদ, গুপ্তচর পরিচালনায় অতিবাহিত করতে হয়েছে। প্রতি মুহূর্তেই প্রিয়জনদের মুখ আর মুখোশ তাকে স্তম্ভিত করেছে । নিজের সিংহাসন তথা বাংলার মর্যাদা রক্ষার্থে তাকে একাধিকবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়েছে।যথা (ক) কলকাতা জয়ের যুদ্ধ (খ) শওকৎ জঙ্গের সঙ্গে যুদ্ধ ।

মন্তব্যের কারণ :  আত্মীয়দের বাক্যবান, সভাসদদের ষড়যন্ত্র এবং ইংরেজদের অগ্রাসী মনোভাবে ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে উঠেছিল যুদ্ধের সম্ভাবনা । তিনি উপলব্ধি করেছিলেন,এই যুদ্ধের পরই তিনি বিশ্রাম পাবেন – সে বিশ্রাম হবে স্বস্তির অথবা কবরের ।
প্রকৃতপক্ষে সিরাজ নিয়তির নিষ্ঠুর  অশনিসংকেত দেখতে পেয়েছিলেন । তাই বেগম লুৎফার কাছে জীবনের কঠিনতম মুহূর্তে তিনি জানিয়েছেন –  অগণিত পলাশ ফুলের রক্ত বর্ণে ও রক্তিম হয়ে থাকা রাক্ষসী পলাশী যেন রক্ত তৃষ্ণায় আকুল । তাই পলাশীর প্রান্তরই হবে তার শেষ যুদ্ধে । আর সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা পাবে অথবা বিসর্জন যাবে ।

৭. “ওই ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী’- কে, কোন প্রসঙ্গে কেন এই মন্তব্য করেছেন ?  অথবা ‘ওর নিঃশ্বাসে বিষ ওর দৃষ্টিতে আগুন, ও অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প’ কার সম্পর্কে কেন এই মন্তব্য? অথবা ‘সিরাজের নবাবির এই পরিণাম’ – কে, কোন পরিণামের ভবিষ্যৎবাণী করেছিল ? অথবা ‘আজকের এ কান্না শুধুই বিলাস’ – বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী ?

উত্তর : একদিকে ইংরেজদের অগ্রাসন অন্যদিকে নিজেরই সভাসদদের ষড়যন্ত্রে সিরাজ যখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত, সেই সময় নবাবের মাসি ঘসেটি বেগম রাজদরবারে প্রবেশ করে সিরাজকে একের পর এক অভিশাপের তীক্ষ্ণ বাণে বিধ্বস্ত করতে থাকেন । নবাবের মুখে ইংরেজদের কাশিমবাজার আক্রমণের কথা শুনে উল্লসিত ঘটেটি নবাবের পতনের ভবিষ্যদ্বাণী করে জানান।
(ক) সিরাজের পতনই হলো তার কাছে বিরাট সুদিন ।
(খ) সিরাজকে ও শওকৎ জঙ্গের মতো সিংহাসনচ্যুত করে হত্যা করা হবে। (গ)লুৎফাকে তার মত বিধবার জীবন যাপন করতে হবে।
(ঘ) জীবনভর অশ্রু বিসর্জন করতে করতে নবাব অন্ধ হবেন । বেগমকেও আজীবন অশ্রুপাত করে দিনযাপন করতে হবে । নবাবের মা আমিনাও কেঁদে কেঁদে অন্ধ হবেন ।
(ঙ)পলাশীর প্রান্তরে শোনা যাবে ক্রন্দনরোল । এটাই হবে সিরাজের নবাবির করুন পরিনাম মাতৃসমা মাসির মুখ থেকে এহেন হৃদয়বিদারক অভিশাপবাণী শোনার পর, বিধ্বস্ত নবাব লুৎফার উদ্দেশ্যে বলে উঠেছেন – “ওই ঘসেটি মানবী নাকি দানবী?”উত্তরে লুৎফা বলেছেন – “ওর নিঃশ্বাসে বিষ ওর দৃষ্টিতে আগুন, অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প”।

৮.’আজ বিচারের দিন নয় সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন’/’আপনাদের কাছে আমার এই ভিক্ষা যে ‘- কে কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ? অথবা ‘এই দুর্দিনে আপনারা আমাকে ত্যাগ করবেন না’ –  কে কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ? অথবা ‘বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা’ –  কে কোন প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন ?অথবা ‘বাংলার মান আপনারা আমায় সর্বরকমের সাহায্য করুন’ – কে কাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন ? কেন চেয়েছেন ?

উত্তর : উৎস : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচয়িতা ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি অংশটি গৃহীত হয়েছে । ষড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছিল বাংলার তরুণ নবাবকে। একদিকে ইংরেজদের অগ্রাসন, অন্যদিকে সভাসদদের গোপন ষড়যন্ত্র তাকে বিপর্যস্ত করে তুলছিল।

গোপন ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ হাতে পেয়েও, সিরাজ নিজের সভাসদদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি । উল্টে বাংলা ঘনায়মান অন্ধকারের কথা তিনি আবেগঘন ভাষায় তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছিলেন । এমনকি তিনি এও বলেছিলেন যে, বাংলার এই আসন্ন বিপদ কেটে গেলে তিনি বিচারসভায় বসতে রাজি আছেন । প্রয়োজনে তিনি হৃষ্টমনে নবাবের কুরসি ত্যাগ করবেন ।
নবাব ভেবেছিলেন, দেশ প্রেমের আবেগ সকলের মনে জাগাতে পারলেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। তাই তিনি নিজের সমস্ত ভুলত্রুটি নতমস্তকে স্বীকার করে, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে সকলের কাছে সম্মিলিত সাহায্যের আকুতি প্রকাশ করেছেন ।

৯.’আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই, আছে শুধু প্রতিহিংসা’-  উক্তির আলোকে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো ।অথবা ঘসেটি চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো ।

অথবা ‘ছল করে ধরে এনে, পাপপুরিতে বন্দিনী করে রাখলে, তোমাদের আমি ক্ষমা করব’- বক্তা কে? উক্তির আলোকে তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো।অথবা “ওর নিঃশ্বাসে বিষ, দৃষ্টিতে আগুন, অঙ্গ সঞ্চালনে ভূমিকম্প”-  উক্তির আলোকে ঘসেটি চরিত্রটি আলোচনা করো ।

উত্তর: উৎস: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ঐতিহাসিক নাটক ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশের ঘসেটি বেগম একজন হৃদয়হীনা প্রতিহিংসাপরায়ণা নারী চরিত্র। পাঠ্য নাট্যাংশে তার সংলাপ সংখ্যা মাত্র ১৯ টি । কিন্তু এই সামান্য কয়টি সংলাপেই তিনি তার কুটিল স্বরূপটি আমাদের সামনে উন্মোচন করেছেন –
(ক) ষড়যন্ত্রকারী এবং দেশদ্রোহী :  সিরাজ চক্রান্তের মধ্যমণি ছিলেন ঘসেটি বেগম। তিনি সিরাজের দুঃখ-যন্ত্রণায় বেদনার্ত নন বরং উল্লসিত । বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার যাবতীয় প্রয়াসের বিরুদ্ধে তিনি গর্বিত বিদ্রোহিনী ।
(খ) প্রতিহিংসাপরায়না : পালিত পুত্রকে সিংহাসনে বসিয়ে ক্ষমতা দখল করার যে স্বপ্ন ঘসেটি দেখেছিল, সেই পুত্রকে হত্যা করে সিরাজের সিংহাসন আরোহনে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় । নবাব ঘসেটিকে নিজ দরবারে নজর বন্দী করে রাখেন । ঘসেটির হৃদয়ে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে প্রতিহিংসার দাবানল । তিনি নিজেই বলেছেন, “আমার রাজ্য নেই, রাজনীতিও নেই। আছে শুধু প্রতিহিংসা।”
(গ) হৃদয়হীনা : কুটচক্রী এই নারীর প্রধান অস্ত্র হল তার ভর্ৎসনা এবং অভিশাপ ।তার হৃদয়ে মায়া মমতার বিন্দু মাত্র প্রকাশ নেই। ক্ষমতার লোভ আর প্রতিহিংসা তাকে করে তুলেছিল হৃদয়হীনা।

এক কথায় বলতে গেলে, তিরস্কার আর অভিসম্পাতে মুখরা এই স্বার্থপর ঘসেটি বেগম ছিলেন সিরাজের “ঘর শত্রু বিভীষণ” ।

১০. ‘তোমার কথা আমার চিরদিন মনে থাকবে’/ ‘আমাকে ভুল না বন্ধু’ –  বক্তা কে? এমন মন্তব্যের কারণ কী ?অথবা ‘প্রয়োজন হলে আমি তোমাকে স্মরণ করব’ কে, কার উদ্দেশ্যে কেন এ কথা বলেছেন? অথবা ‘আমার বিপদ সম্বন্ধে আমাকে সচেতন করে তুমি আমার প্রতি তোমার অন্তরের পৃথিবীর পরিচয় দিয়েছে বক্তা’ –  কে, কোন পরিস্থিতিতে তার এই উক্তি?

উত্তর: উৎস : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

উত্তরের প্রথমাংশ :  নবাব সিরাজদৌলা ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন কণ্ঠে এ কথা বলেছেন ।

উত্তরের দ্বিতীয়াংশ : ইংরেজদের অগ্রাসী নীতির প্রতিকার চেয়ে ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে-লা সিরাজের দরবারে হাজির হন । কিন্তু ফরাসি দের প্রতি সিরাজের অন্তরের পূর্ণ সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও, নানা অক্ষমতার কারণে সিরাজ তাদের সাহায্য করতে পারেননি। এই জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছিলেন ।

এই অবস্থায় ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে-লা  সিরাজকে জানান –
(ক) তিনি সিরাজের মর্মবেদনা উপলব্ধি করতে পারছেন ।
(খ) বাংলাদেশ ফরাসিদের কাছে ভীষণ প্রিয়। কিন্তু এই দেশ ত্যাগ করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় নেই ।
(গ) সিরাজের সামনে ভীষণ বিপদ । ফরাসিরা বিদায় নেওয়ার পর ছাইচাপা বিপদের সেই লেলিহান শিখা, দাবালন হয়ে গোটা বাংলাকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।

বাংলার প্রতি মঁসিয়ে-লার এই অকৃত্রিম দরদ ও ভালোবাসা আবেগবিহ্বল করে তুলেছিল সিরাজকে। সে কারণেই মঁসিয়ে-লাকে বন্ধু বলে সম্বোধন করে তাকে চিরকালের জন্য মনে রাখা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ।

১১. ‘এ ভীতিপ্রদর্শনের অর্থ কী’ – কে, কাকে কথাটি বলেছেন ? ভীতিপ্রদর্শন কীভাবে করা হয়েছিল ? অথবা ‘এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন’ – পত্রটি কে লিখেছিলেন ? পত্রটির মর্মকথা লেখো । অথবা ‘বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইব’ –  এমন মন্তব্যের কারণ কী  ? অথবা ‘অ্যাডমিরাল এ কথা লিখিয়াছেন কেন আমি বুঝিনা’ –  বক্তা কে ? অ্যাডমিরাল কী লিখেছিলেন ?

উত্তর: উৎস : বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

বাংলা নবাব সিরাজদৌলা ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশ্যে এই কথাটি বলেছিলেন ।
ষড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতা স্বর্ণলতার মতো আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছিল বাংলার তরুণ নবাবকে । সেই ষড়যন্ত্রের অশনি সংকেতই দেখতে পাওয়া যায় ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসের উদ্দেশ্যে লেখা আ্যাডমিরাল ওয়াটসনের চিঠিতে । সে চিঠিতে লেখা ছিল হাড় হিম করা নানা তথ্য –
(ক) কর্নেল ক্লাইভের পরামর্শ মতন ইংরেজ সৈন্যরা অতি দ্রুত কলকাতাতে পৌঁছাবে ।
(খ)ওয়াটসন একটি জাহাজ মাদ্রাজে পাঠিয়ে সংবাদ দেবেন যে, বাংলাকে আক্রমণ করার জন্য আরও সৈন্য প্রয়োজন।
(গ) ‘বাংলায় আমি এমন আগুন জ্বালাইব, যাহা গঙ্গার সমস্ত জল দিয়াও  নেভানো যাবে না’ ।

ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট স্বরূপ এই গোপন পত্রটি ছিল বাংলা তথা নবাবের কাছে বিপদজনক এক প্রকার ভীতি প্রদর্শন।

১২.’জাহাঁপনা ! নীচের এই স্পর্ধা – কাকে ‘নীচ’ বলা হয়েছে ? কেন বলা হয়েছে ? অথবা ‘নীচপদস্থ কর্মচারীদের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের কাজের সমালোচনা করা উচিত নয়’- কে কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছেন ? অথবা ‘এই তরবারি স্পর্শ করে আমি শপথ করছি জাঁহাপনা বক্তা কোন শপথ কেন নিয়েছিলেন ?

উত্তর: উৎস: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচয়িতা ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর
মীরমদন কে ‘নীচ’বলে সমোধন করেছেন।

ষড়যন্ত্রকারী ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে দরবার থেকে বিতাড়নের পর, সিরাজের সঙ্গে অন্যান্য সভাসদেরা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় মিরজাফর বলে ওঠেন – মানি লোকেদের এভাবে অপমান করলে তিনি আর কখনো সিরাজের পক্ষে অস্ত্র ধরবেন না । মীরজাফরের এই মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে –
(ক) মোহনলাল জানতে চান :  তিনি কবে নবাবের পক্ষে অস্ত ধারণ করেছেন?
(খ) মীর মদন বলেন : কলকাতা জয় থেকেই পূর্ণিয়া বিজয় পর্যন্ত মীরজাফর কবে নবাব কে সাহায্য করেছেন ?

প্রধান সেনাপতির কাছে অধঃস্তনদের এই সব প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই মীরজাফর অস্বস্তিতে পড়েন ।নিজের দোষ ঢাকতে, তিনি মীরমদনের প্রশ্নটিকে ‘নীচের আস্পর্দা’ বলে বিষয়টিকে এড়িয়ে যেতে চান ।

১৩. ‘আমার নবাবের নিমক বৃথা খাই না, এ কথা তাদের মনে রাখা উচিত’ – কে কোন প্রসঙ্গে এ মন্তব্যের অবতারণা করেছেন ? অথবা ‘নবাব থাকুন তার কর্মক্ষম, শক্তিমান পরম বিচক্ষণ মন্ত্রী আর সেনাপতিদের নিয়ে’- কে কোন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন ? অথবা ‘আর ভাবনা কী’- বক্তা কে? কেন আর ভাবনা নেই বলে তার অভিমত ?

উত্তর: উৎস: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাট্যাংশ থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

প্রদত্ত অ়ংশের বক্তা হলেন নবাবের একান্ত অনুগত এবং বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন ।

মন্তব্যের কারণ/ মন্তব্যের প্রসঙ্গ: ষড়যন্ত্রকারী ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসকে দরবার থেকে বিতড়নের পর সিরাজের সঙ্গে অন্যান্য সভাসদের জড়িয়ে পড়েন । ইংরেজদের পদলেনকারী আমাত্যরা যখন নবাবের অন্নে প্রতিপালিত হয়েও নবাবকে উৎখাত করে বাংলার সর্বনাশের পথ প্রশস্ত করতে ব্যস্ত, তখনই নবাবের দুই বিশ্বস্ত প্রতিনিধি মোহনলাল ও মীরমদন নবাবের পাশে দাঁড়ান। মীরমদন
ষড়যন্ত্রেরকারীদের উদ্দেশ্যে দৃঢ় কন্ঠে বলেন –  (ক) নবাবকে আত্মরক্ষা বা সিংহাসন রক্ষার অক্ষম বলে যারা ভাবছেন, তারা মুর্খের স্বর্গে বাস করেন ।(খ) নবাবের তথা অন্নদাতার মর্যাদা রক্ষার জন্য তার মত বিশ্বস্ত সেনারা আজও জীবিত । কারণ তারা  নেমকহারাম নন, নুন-এর মূল্য দিতে তারা জানেন।

১৪. ‘সিরাজদৌলা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে সিরাজের চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো। অথবা ‘সিরাজদৌলা’ নাটক অবলম্বনে সিরাজের দেশপ্রেমের পরিচয় দাও ।

উত্তর: উৎস: বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজ এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব । তাঁর চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি সহজেই আমাদের আকর্ষিত করে সেগুলি হল –
(ক) দেশপ্রেমী: সিরাজ তাঁর নিজের বিরুদ্ধে যাবতীয় ষড়যন্ত্রকে কখনোই ব্যক্তিগত আলোকে দেখেননি । বরং বাংলার স্বার্থকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন । এই কারণেই দুর্দিনে বাংলাকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া সিরাজ অধঃস্তনদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পিছপা হননি ।
(খ) ধর্মনিরপেক্ষ:  তিনি জানতেন, হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে বাংলাকে পরাধীনতার আগল থেকে মুক্ত করতে । তাই তিনি গর্বিত কন্ঠে উচ্চারণ করেছেন মহামিলনের শাশ্বত বাণী-“মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা”। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত এই জাতীয়তাবোধের দৃষ্টান্ত সত্যিই দুর্লভ।

(গ)বান্মিতা: বাকপটু সিরাজ আবেগঘন শব্দচয়ন করে চক্রান্তকারীদের হৃদয়কে সাময়িকভাবে হলেও বশীভূত করতে পেরেছিলেন ।
(ঘ) আত্মসমালোচনা : নবাব বুঝেছিলেন ষড়যন্ত্রকারীরা যেমন ভুল করেছেন, তেমনি অনেক ত্রুটি তিনি নিজেও করেছেন । এই কারণেই তিনি সভাসদদের সামনে নতমস্তকে নিজের পূর্বকৃত কাজের সমালোচনা করে, ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। (ঙ) দুর্বল মানসিকতা :  সিরাজ শত্রুপক্ষের চক্রান্তের অকাট্য প্রমাণ হাতে  পেয়েও, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। এই দুর্বলতার কথা  তিনি নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন,-“পারিনি শুধু আমি কঠোর নই বলে”
(চ) অসহায়ত্ব: আসন্ন যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি আগে থেকেই কল্পনা করতে পেরেছিলেন সিরাজ । তাইতো বেগম লুৎফার কাছে অসহায়ভাবে তিনি বলে উঠেছিলেন, “এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ”।

প্রকৃতপক্ষে সিরাজের এইসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই তাকে ট্রাজিক নায়কে পরিণত করেছে।

১৫.’আর কত হেয় আমাকে করতে চান আপনারা?’- ‘আপনারা’ বলতে তাদের কথা বলা হয়েছে? তারা বক্তাকে কীভাবে হেয় করেছিলেন?

উত্তর : বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মুষ্টিমেয় সভাসদদের কথা এখানে বলা হয়েছে । যেমন- রাজবল্লভ, জগৎশেট,  মীরজাফর প্রমুখ।
সিংহাসনে আরোহনণের পর থেকেই রাজসভাসদদের একাংশ নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেন । নবাবকে হেয় প্রতিপন্ন করতে প্রতি মুহূর্তে তারা –
(ক) নবাবের বিরুদ্ধে নানা কটুক্তি করতেন । (খ) নবাবের নামে নানা দুর্নাম রটাতেন এবং রাজকর্মচারীদের মনে ও অশ্রদ্ধার বীজ বপন করতেন (গ) নবাবের বিরুদ্ধে আত্মীয়দের মনও বিষিয়ে দিতেন।
নবাব অনুভব করেছিলেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করাই এই শ্রেণীর একমাত্র
লক্ষ্য । সেই সূত্রে কথোপকথনের সময় জগৎশেট অকম্পিত কন্ঠে নবাবের মুখের উপর জানিয়েছিলেন স্বার্থসিদ্ধির কথা ভাবলে “বাংলার সিংহাসনে এতদিন অন্য নবাব বসতেন”। নবাব রাজকর্মচারীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং আস্পর্ধা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করলে, জগৎশেঠ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জানান নবাবের উপদ্রব তাদের এই সাহসের উৎস ।
এইভাবেই জগৎশেঠসহ অন্যান্য স্বার্থপর সভাসদরা সম্মিলিতভাবে নিজেদের বিষাক্ত ক্রিয়া কান্ডের দ্বারা নবাব কে হেয় করেছিলেন।

People Also Search For বা Related Searches

  • সিরাজউদ্দৌলা নাটক
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের চরিত্র
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর mcq class 10
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটক class 10 প্রশ্ন উত্তর
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বিষয়বস্তু
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সিরাজের চরিত্র
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ছোট প্রশ্ন উত্তর
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটক pdf
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটক শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত pdf
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর mcq
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর 2025
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর pdf
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের প্রশ্ন উত্তর 2026
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটকের বড় প্রশ্ন উত্তর
  • Class 10 bengali sirajuddaula question answer
  • সিরাজউদ্দৌলা নাটক দশম শ্রেণি

Leave a Comment