আমার প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “‘এরপর কোনির ট্রেনিং আরো কঠিন করে তুলল’ _____ এরপর বলতে কিসের পর ? কিভাবে কোনির ট্রেনিং আরো কঠিন হয়েছিল ?”
উৎস :
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’উপন্যাস থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে ।
প্রসঙ্গ :
ক্ষিতীশ একদিন খবরের কাগজে দেখেন যে , মহারাষ্ট্রের স্বনামধন্য সাঁতারু রমা যোশী স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময়ে নিজের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রথম হয়েছে । রমার এই সাফল্যটাকেই ক্ষিতীশ কোনির সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন । যেহেতু রমা তার লক্ষ্যমাত্রা ৭২ সেকেন্ডে পার করেছিল , তাই ক্ষিতীশ বড় করে ৭০ সংখ্যাটি লিখে ক্লাবের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন । সংখ্যাটি ছিল সময়ের মাপকাঠিতে রমা যোশিকে হারানোর প্রতীক । ক্ষিতীশ জানতেন একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে থাকলে , কোনি নিজের প্রচেষ্টাকে বাড়িয়ে লক্ষ্যকে সহজেই অতিক্রম করতে পারবে ।
রমা জোশির সাফল্যের খবর জানার পর ক্ষিতীশ কোনির টাইমিং আরো উন্নত করতে সচেষ্ট হন । সেজন্যই তিনি কোনির অনুশীলনকে আরো কঠিন করে তোলেন । যথাঃ_____
(ক) শীতকালে এসে গেলে ক্ষিতীশ কোনির ট্রেনিং বন্ধ করেন না ।
(খ) কোনিকে দুবেলা জলে নামান এবং চার রকমের স্ট্রোক মিলিয়ে দিনে দুমাইল হাড়ভাঙ্গা সাঁতার কাটান ।
(গ) পা-বাঁধা অবস্থায় শুধুমাত্র হাতের সাহায্যে পুল করানো শুরু করেন ।
(ঘ) প্রতিমাসে রক্ত হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ি পরিশ্রমের মাত্রা বাড়ান ।
উপসংহার :
রমা জোশির সাফল্যের খবর পাওয়ার পর কোনির চোখে যেন নতুন লক্ষ্য জেগে ওঠে। সেই অনুপ্রেরণায় কোনি বুঝতে পারে যে, কঠিন পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই সে নিজেকে আরও কঠিন অনুশীলনের মধ্যে নিয়োজিত করে। রমার মতো সাফল্য অর্জনের তাগিদে কোনি প্রতিদিনের ট্রেনিংকে কঠোর করে তোলে এবং নিজেকে আরও দৃঢ় ও প্রস্তুত করে তোলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতার জন্য। এই ঘটনা আমাদের শেখায়, অন্যের সাফল্য শুধু ঈর্ষা নয়, অনুপ্রেরণার উৎসও হতে পারে, যা মানুষকে নিজের সীমা অতিক্রম করতে সহায়তা করে।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময় নিয়ে আর্টিকেলটা পড়ার জন্য । আপনার দিন শুভ হোক ।