স্নেহের শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকের এই আর্টিকেলে আমাদের আলোচ্য বিষয় “নারী ইতিহাসের উপর একটি টীকা|Nari itihasher upor ekti tika”
ভূমিকা :
সাবেক ইতিহাসে উপেক্ষিতা নারী সমাজের ভূমিকার পুনর্মূল্যায়ন আধুনিক ইতিহাসচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।
নারী ইতিহাসচর্চা
(i) গবেষণা :
পাশ্চাত্যে নারীবাদী ইতিহাসচর্চার ধারা অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সূচিত হলেও ভারতের মতন দেশে এই চর্চা অপেক্ষাকৃত নবীন । ভারতে নারীবাদী ইতিহাস নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন নীরা দেশাই , বি . আর নন্দা প্রমুখ ।
(ii) পুরুষকেন্দ্রিক ইতিহাসের সংশোধন :
প্রচলিত ইতিহাসে নারীর ভূমিকা সর্বদাই প্রান্তিক । সেই প্রান্তিকতা থেকে সরে এসে ইতিহাসে নারীর ভূমিকার প্রকৃত মূল্যায়ন নারীবাদী ইতিহাসচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য । বস্তুতপক্ষে নারীবাদী ইতিহাস হল এক ধরনের সংশোধনবাদী ইতিহাসচর্চা ।
(iii) নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা :
নারীর অধিকার এবং নারী- পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা নারীবাদী ইতিহাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ।
(iv) নারীর অংশগ্রহণ :
বিভিন্ন সময়কালে সমাজে নারীর পরিবর্তিত অবস্থান , আর্থ – সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে নারীর ভূমিকা , নারীর পোশাক , কর্মসংস্থান , ধর্ম- কর্ম- গার্হস্থ্য ও শিল্পোৎপাদন কর্মে নারীর অংশগ্রহণ প্রভৃতিকে চিহ্নিত করা নারীবাদী ইতিহাসচর্চার মূল প্রতিপাদ্য ।
(v) সভ্যতার অগ্রগতির মাপকাঠি :
যে নারী ‘অর্ধেক আকাশ’ তথা শক্তির স্বরূপ , সেই নারীকে বাদ দিয়ে কোনো সমাজ কোনো কালে অগ্রসর হতে পারে না । বস্তুতপক্ষে কোনো সমাজ বা সভ্যতায় নারীর অবস্থান ও মর্যাদার উপর সেই সমাজের অগ্রসরতা নির্ভর করে । তাই নারী ইতিহাস হয়ে উঠেছে সভ্যতার অগ্রগতির মাপকাঠি ।
উপসংহার
ভারতবর্ষে নারীবাদী ইতিহাসচর্চার ধারা অপেক্ষাকৃত নবীন হলেও বর্তমানে এর ক্ষেত্র অনেকটাই বিস্তৃত । আধুনিক ভারতীয় সমাজে নারীর সর্বব্যাপী অধিকার ভারতীয় সমাজের অগ্রগতির যথার্থ মাপকাঠি ।